মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
শহীদ জিয়ার আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন-অগ্রগতির পথচলায় আজও প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ী। জাতীয় সংকটের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়েছে। তাঁর আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্র, শ্রমিক, যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দেশ স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়।
স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, নাগরিক অধিকার সংকোচন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তাঁর নেতৃত্বে কৃষি, শিল্প ও অর্থনৈতিক খাতে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়। সততা, দেশপ্রেম এবং কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দেশ-বিদেশের নানা মহলে তাঁর জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা অনেকের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে দেশ একজন সাহসী দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ককে হারায়। তবে তিনি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় ও শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত।
পরবর্তীতে তাঁর সহধর্মিণী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন। শহীদ জিয়ার আদর্শিক দৃঢ়তা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম আজও জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রেরণার উৎস।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল, যার ফলে জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে গড়ে তুলতে হবে। জনগণের অধিকার, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সততা, দেশপ্রেম এবং কর্মনিষ্ঠা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় জীবনের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণকে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনের আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
