চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সদ্য নির্মিত কাঁচা সড়ক, সেতুর এপ্রোচ রোড এবং এইচবিবি সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ায় জনদুর্ভোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি কোটি কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন কাজও হুমকির মুখে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে টিআর-কাবিখা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং ২৬৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ব্যয়ে ৩২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ কাজ সম্প্রতি শেষ হলেও টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে নতুন নির্মিত অনেক মাটির সড়ক ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ২০টি সেতুর মধ্যে ১৮টির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানির চাপে সেতুগুলোর এপ্রোচ রোডের সলিং ও মাটির অংশ দেবে গিয়ে অনেক স্থানে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নায়েরগাঁও উত্তর এলাকার এক কিলোমিটার দীর্ঘ এইচবিবি সড়কও অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
তুষপুর-ঘোনা সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য শারমিন আক্তার বলেন, “মাত্র এক সপ্তাহ আগে রাস্তাটির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু টানা বর্ষণে পাশের মাটি সরে গিয়ে রাস্তাটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী।”
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “ধনাগোদা নদীর তীরবর্তী খাদেরগাঁও-লামছড়ি সংযোগ সড়কটি অনেক আশা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্যোগে সেটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের কাদামাটি ও বেলেপ্রধান মাটিতে ভারী বর্ষণে দ্রুত ক্ষয় হয়। নতুন নির্মিত রাস্তার পাশে লাগানো ঘাসও এখনও মাটি শক্তভাবে ধরে রাখার মতো সময় পায়নি।
মতলব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস আহমেদ জানান, টানা বর্ষণে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. ইশমাম বলেন, “প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হওয়ার পরপরই এমন ধারাবাহিক অতিবর্ষণে কাঁচা রাস্তাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে এবং অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
