মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি-এর সাজার মেয়াদ আরও কমিয়েছে দেশটির সরকার। সামরিক প্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সব বন্দির অবশিষ্ট সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানোর ঘোষণা দেন।
বার্তা সংস্থা এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সু চির কারাদণ্ডও আরও কমবে। ২০২১ সালের মিয়ানমার সামরিক অভ্যুত্থান ২০২১-এর পর থেকেই তিনি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বন্দি রয়েছেন।
সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-এর এক জ্যেষ্ঠ সদস্য জানান, সাজা কমানো হলেও তার বাকি মেয়াদ কতদিন রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র বলেন, সু চির মোট কত বছর সাজা বাকি আছে, সে তথ্যও পরিষ্কার নয়।
পাঁচ বছর আগে সেনাবাহিনী তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে। পরবর্তীতে দুর্নীতি থেকে শুরু করে কোভিড-১৯ বিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সংঘাত ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে মিন অং হ্লাইং প্রথমে সামরিক প্রধান হিসেবে এবং সম্প্রতি সীমিত নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রক্রিয়া সামরিক শাসনের নতুন রূপ।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, একটি সরকারি ছুটি উপলক্ষে বন্দিদের অবশিষ্ট সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হচ্ছে। যদিও এতে কোনো নির্দিষ্ট বন্দির নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এনএলডির সূত্র জানিয়েছে—৮০ বছর বয়সী সু চির ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।
উল্লেখ্য, বন্ধ আদালতে বিচারের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগে শুরুতে সু চিকে ৩০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে আংশিক ক্ষমার ফলে তার সাজা কমে ২৭ বছরে দাঁড়ায়। তবে বর্তমান সিদ্ধান্তে তার সাজা ঠিক কতটা কমবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
