গাইবান্ধা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির দলিল করতে আসা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোববার বিক্ষোভ, স্লোগান ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতি সাত দিনের কলম বিরতির ঘোষণা দিয়েছে।
রোববার দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা মল্লিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত কলম বিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
মোস্তা মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, পৌরসভার কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখক সমিতির কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। দাবি পূরণ না করায় তারা রোববার অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। তিনি আরও বলেন, অফিসের মূল ফটক বন্ধ করার প্রতিবাদ করলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ব্যক্তিগতভাবে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে গিয়ে সমিতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। তাদের পক্ষে আব্দুস সালাম বলেন, জমির দলিল করতে আসা ক্রেতাদের কাছ থেকে সমিতির নামে অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এসব অনিয়মের প্রতিবাদে রোববার মানববন্ধনের কর্মসূচি ছিল। তবে কর্মসূচির আগেই ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে জড়ো হয়ে দলিল লেখক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আগামী মঙ্গলবার “সচেতন গাইবান্ধাবাসী” ব্যানারে মানববন্ধনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আব্দুস সালাম আরও অভিযোগ করেন, নতুন কোনো কর্মকর্তা এলেই দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, গাইবান্ধা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সীমাহীন দুর্নীতি থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি চান।
এ ঘটনার জেরে জেলা শহরের ব্যস্ততম ডিবি রোড ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
