একদিকে কোটি টাকার নদীভাঙন রোধ প্রকল্প, অন্যদিকে সেই ভাঙনকবলিত এলাকার পাশেই চলছে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন। তাহলে কি নদী রক্ষার কাজ, নাকি ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ানোর আয়োজন? গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে উঠেছে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামে ঘাঘট নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ স্থাপনের কাজ করছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, যে স্থানটি সবচেয়ে বেশি ভাঙনকবলিত, ঠিক তার পাশ থেকেই শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, উত্তোলিত সেই বালু দিয়েই জিওব্যাগ ভর্তি করে নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে সরকারি প্রকল্পের কার্যকারিতা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

আরও অভিযোগ, কাজ চলাকালে ঘটনাস্থলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা তদারককারীকে দেখা যায়নি। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যেখানে নদী ভাঙছে, ঠিক সেখানেই ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।”
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি ব্যাখ্যা না দিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে ঠিকাদার মুক্তার দাবি করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়েই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তবে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এখন প্রশ্ন একটাই—নদী রক্ষার নামে ভাঙনের পাশেই বালু উত্তোলন কতটা যৌক্তিক? এটি কি প্রকৌশলগত সিদ্ধান্ত, নাকি তদন্তের দাবি রাখে? বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
